হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে, দাবি আইআরজিসির
কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ উন্মুক্ত রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকেও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির নৌবাহিনী বলেছে, ইরানের সঙ্গে আগাম সমন্বয় ছাড়া কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ‘সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ’। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের জলপথটি উন্মুক্ত থাকার দাবি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধে নিজেদের পরাজয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে আইআরজিসি।
ইরানের নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া এবং প্রায় আড়াই মাস আগে স্বাক্ষরিত একটি কাঠামোগত চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তেহরানের দাবি, ওই চুক্তির মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার বলেছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথ থেকে মাইন সরিয়ে ফেলেছে এবং এসব পথে এখন জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এর আগে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সাত দিনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি।
তেলের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাত ও কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। তেহরান ওয়াশিংটনের কাছ থেকে বিভিন্ন ছাড় আদায়ের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক শক্তির মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি ঘিরে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে ফেরেনি। ফলে জলপথটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ মালিক ও জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
