মধুপুরে বন্যপ্রাণীর নিরাপদে রাস্তা পারাপারে ৫ উড়ালসেতু নির্মাণ

Jul 11, 2026 - 04:20
Jul 11, 2026 - 04:21
 0  2
মধুপুরে বন্যপ্রাণীর নিরাপদে রাস্তা পারাপারে ৫ উড়ালসেতু নির্মাণ

মধুপুর জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে বয়ে চলা টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কের দুপাশ গহিন অরণ্যঘেরা। বনের ভেতরে বসবাসরত প্রাণীরা অনেক সময় যানবাহন চলাচলের এই রাস্তা পার হতে গিয়ে মৃত্যুর মুখে পড়ে। এই সড়ক পারাপারে বন্যপ্রাণীর মৃত্যু কমাতে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে পাঁচটি উড়ালসেতু (রোপওয়ে) রজ্জুপথ নির্মাণ করেছে বন বিভাগ।

গাছের সঙ্গে বিশেষ প্রক্রিয়ায় স্থাপন করা এসব রোপওয়ে ব্যবহার করে বানর, হনুমান, গোন্ধগোকুলসহ গাছে বসবাসকারী প্রাণীরা এখন নিরাপদে মহাসড়ক পার হতে পারছে।

বিজ্ঞাপন

টাঙ্গাইল বন বিভাগ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কটি মধুপুর জাতীয় উদ্যানকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। এই বনের বানর, হনুমান, বাঘডাসাসহ নানা বন্যপ্রাণী যখন খাবারের সন্ধানে পাকা রাস্তাটি পার হয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে উদ্যত হয়, তখন বেপরোয়া চলন্ত গাড়ির নিচে পড়ে প্রায়ই এসব প্রাণী মারা যায়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জ এলাকার টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঁচটি পয়েন্টে তাদের পারাপারের জন্য রোপওয়ে (উড়াল সেতু) নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক লিটন সরকার জানান, এই মহাসড়কে প্রতিদিন অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। বনের পশুরা এই পাকা রাস্তার পাশে দর্শনার্থীদের দেওয়া খাবার খেতে এসে অনেক সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মারা যায়।

তাই প্রথম কথা হলো, দর্শনার্থীদের আলাদা স্পট করে দিতে হবে, যেখানে দর্শনার্থী ও পশুপাখি নিরাপদ থাকবে। এছাড়া এই উড়ালসেতুর সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। কারণ এই পাঁচটি স্পট বন এরিয়ার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আরো বাড়ালে পশুমৃত্যুর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করা যায়।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহাম্মদ মহসীন জানান, বনে বসবাসরত বানর-হনুমান ও নিশাচর প্রাণীরা এ অংশ দিয়ে পাকা রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই মারা যায়।

ধীরগতিতে গাড়ি চালানোর জন্য সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও অনেক চালক তা মানেন না। তাই গাছে বিচরণকারী প্রাণীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য এই রোপওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, একসময় মধুপুরের এই বন প্রায় ৬২ হাজার একরজুড়ে বিস্তৃত ছিল। মধুপুর বনাঞ্চলের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। বন উজাড়, খাবারের সংকট ও আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ায় বহু বন্যপ্রাণীর জীবন এখন অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এই রোপওয়ে নির্মাণের ফলে কিছুটা হলেও তাদের অবাধ বিচরণ নিরাপদ হবে বলে আশা করা যায়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
admin আপনার আশেপাশের তথ্য, সংবাদ, সমস্যা, সম্ভবনা, প্রতিভা, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, ব্যবসা, বানিজ্য প্রতিটি তথ্যের বিন্দু বিসর্গ তুলে ধরতে চাই। এই চেষ্টায় আপনাদের সাথে চাই, পাশে চাই, সহযোগীতা, পরামর্শ তথ্য চাই। md.sumon71khobor@gmail.com