বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৭.৪৭ বিলিয়ন ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার।সোমবার (২৪ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৪ আগস্ট দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ হাজার ৪৬৭ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ হাজার ৬১৬ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার।সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভে ধারাবাহিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর আগে গত ২০ আগস্ট দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩২ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ চার দিনের ব্যবধানে গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১২২ দশমিক ১২ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১৭৭ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার।এর আগে ১৮ আগস্ট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। ১৩ আগস্ট গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৭ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩২ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি দায় পরিশোধের পর রিজার্ভে কিছুটা চাপ তৈরি হলেও পরবর্তী সময়ে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহের কারণে রিজার্ভ আবার বাড়তে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মিত তথ্যেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সাম্প্রতিক পুনরুদ্ধারের চিত্র দেখা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাসিক হিসাবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই শেষে গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ছিল ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে ২৪ আগস্ট ডলারের বাজারেও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের স্পট রেফারেন্স রেট ছিল প্রতি ডলার ১২২ দশমিক ৯২১৬ টাকা।
রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয় এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের উন্নতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই প্রবাসী আয় প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরবরাহ বাড়ছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব রিজার্ভেও পড়ছে।
তবে গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এমন কিছু সম্পদ বাদ দেওয়া হয়, যেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিপিএম-৬ হিসাবকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সর্বশেষ হিসাবে, বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে গ্রস রিজার্ভও ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানি দায় পরিশোধের সক্ষমতার জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
