বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে মেক্সিকোকে কাঁদিয়ে শেষ আটে ইংল্যান্ড
প্রতিপক্ষ দলে একজন কম থাকার সুযোগটা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারল না মেক্সিকো। দুই মিনিটের ব্যবধানে জুড বেলিংহ্যামের করা জোড়া গোলে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশটিকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড।
মেক্সিকো সিটিতে গোল-পাল্টা গোল, লাল কার্ড, একাধিক পেনাল্টির টানটান উত্তেজনা আর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৩-২ ব্যবধানে জিতে শেষ হাসি হেসেছে ইংলিশরা।
শেষ দিকে একাধিকার সমতা ফেরানোর কাছাকাছি চলে গিয়েছিল মেক্সিকো। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত গোলটা আর আসেনি।
শেষ আটে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্লিং হালান্ডের নরওয়ে। দিনের আগের ম্যাচে হলান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ আটের টিকিট পায় নরওয়ে।
মেক্সিকো সিটিতে দিনভর হয় বৃষ্টি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যাচ এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়। শুরু থেকেই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। তবে এক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে বড় ধাক্কা খায় মেক্সিকো।
ডান প্রান্ত থেকে বুকায়ো সাকার দারুণ ক্রস হ্যারি কেইনকে ফাঁকি দিলেও বেলিংহ্যামকে এড়াতে পারেনি। দারুণ ডাইভ হেডে দলকে এগিয়ে নেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় আজতেকা স্টেডিয়াম।
সেই রেশ থাকতেই মাঝমাঠে বলে কেড়ে নিয়ে হ্যারি কেইনকে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। কেইন আড়াআড়ি বল বাড়ান ডি বক্সে। নিঁখুত প্লেসিংয়ে মুহূর্তেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহ্যাম।
তবে হাল ছাড়েনি মেক্সিকো। চার মিনিটের মাথায় একটি গোল শোধ দেয় স্বগতিকরা। ৪২ মিনিটে গোলটি করেছেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। মেক্সিকোর ফ্রিকিক পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেনি ইংল্যান্ড। অনেকটা ফাঁকায় বল পেয়ে জোরালো শটে ব্যবধান কমান কিনিয়োনেস।
ম্যাচের ৫৪তম মিনিটে দশজনে পরিণত হয় ইংল্যান্ড। হেসুস গায়ার্দোকে বাজেভাবে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জ্যারেল কোয়ানসা।
মেক্সিকো সুযোগ কাজে লাগাবে কি উল্টো ছয় মিনিটের মাথায় খেয়ে বসে আরেক গোল। বক্সের ভেতর অ্যান্থনি গর্ডনকে রাউল রানহেল ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সফল স্পটকিকে ব্যবধান ৩-১ করে দেন হ্যারি কেইন।
আসরে অভিজ্ঞ এই সট্রাইকারের গোল হলো ৬টি। ৭টি করে গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তার উপরে আছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আলিং হালান্ড।
একজন কম নিয়ে বাকি সময় পার করাই ছিল ইংল্যান্ডের বড় চ্যালেঞ্জ। ৬৯তম মিনিটে তারা একটি গোল হজমও করে। ম্যাচে ফেরে টানটান উত্তেজনা।
বক্সের ভেতর হ্যারি কেইন মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রেফারি। স্পট কিকে ব্যবধান ৩–২ করেন রাউল হিমিনেজ।
বাকি সময়ে চেষ্টা চালিয়েও সতমাসূচক গোলের দেখা পায়নি মেক্সিকো। ১১ মিনিট ইনজুটি টাইম পেরিয়ে শেষ বাঁশি বাজতেই হাফ ছেড়ে বাঁচে ইংলিশ সমর্থকরা। মাঠের এক পাশে তখন ইংল্যান্ডের উল্লাস, অন্যপ্রান্তে মেক্সিকোর হতাশায় নুইয়ে পড়া। স্বাগতিকদের অনেকেই এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0