নদী শুকিয়ে ভাসলো হিটলারের যুদ্ধজাহাজ
ইউরোপজুড়ে অব্যাহত তীব্র দাবদাহ ও খরা পরিস্থিতির কারণে সার্বিয়ার দানিউব নদীর পানির স্তর রেকর্ড পরিমাণে নেমে গেছে। আর এর ফলেই পানির নিচ থেকে ভেসে উঠেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একাধিক জার্মান নাৎসি যুদ্ধজাহাজ। সার্বিয়ার প্রাহোভো গ্রামের কাছে নদীর মাঝখানে ও বালুচরে এসব জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে। এছাড়া ক্রুয়েশিয়ার ওপাটোভাকের কাছে ১৯৩৭ সালে ডুবে যাওয়া একটি হাঙ্গেরীয় পণ্যবাহী জাহাজও দৃশ্যমান হয়েছে।
ছবিসহ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সার্বিয়ার প্রাহোভো শহরের কাছে দানিউব নদীর বুক জুড়ে ভেসে উঠেছে জার্মানির নাৎসি আমলের ‘ব্ল্যাক সি ফ্লিট’-এর এসব যুদ্ধজাহাজের ধ্বংসাবশেষ।
ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের তথ্যমতে, দানিউব নদীর তলদেশে এমন প্রায় ২০০টি জলযান রয়েছে। পানির স্তর সংকটাপন্ন হওয়ায় নদীতে নৌ-পরিবহন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি হাঙ্গেরির অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যুতের যোগানদাতা ‘প্যাকস পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি’ প্রয়োজনীয় পানির অভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগিয়ার।
১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষপর্যায়ে সোভিয়েত বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এবং নিজেদের রসদ ও জাহাজ শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে নাৎসি বাহিনী তাদের শত শত যুদ্ধজাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবেই দানিউব নদীতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। খরা ও রেকর্ড তাপদাহের কারণে নদী শুকিয়ে আসায় এই বহরের ডজনখানেক জাহাজ পানির ওপর পরিষ্কার দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসাবশেষগুলোর ভেতরে বহু শত টন বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়ে গেছে।
এদিকে উত্তর বুলগেরিয়ায় নদী শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একটি প্রাচীন ম্যামথের সম্ভাব্য অবশিষ্টাংশ দৃশ্যমান হয়েছে। রিয়াহোভো গ্রামের এক স্থানীয় বাসিন্দা এর হাড়গুলো উদ্ধার করেন। নিকটবর্তী রুসে শহরের একটি আঞ্চলিক ইতিহাস জাদুঘরের পরিচালক নিকোলে নেনোভ এই আবিষ্কারকে ‘বিজ্ঞানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
আগামী দিনগুলোতে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য কোনো বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই এবং তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে, যার ফলে দানিউব নদীর পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সার্বীয় কর্তৃপক্ষের মতে, নদীর নাব্যতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি এই জাহাজগুলোর বিস্ফোরক উপস্থিতি আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ও স্থানীয় জেলেদের নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁঁকি তৈরি করেছে। সরকার ইতোমধ্যেই অঞ্চলটিকে ঝুঁঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং বিস্ফোরক নিষ্কাশনের প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। সূত্র : রয়টার্স
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
