চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজ স্থাপনসহ ৫ দফা প্রস্তাব
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজ স্থাপনসহ ৫ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক।
শনিবার এ চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে চেম্বার সূত্র জানিয়েছে।
অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা অপারেশনাল কার্যক্রম চালু রাখা, আন্তর্জাতিক রুটের জন্য ৪০ শতাংশ প্রিফারেশনাল ট্যারিফ নির্ধারণ, লং রুট ফ্লাইটের বিরতির ক্ষেত্রে যাত্রী নেওয়া ও নামানোর সুবিধা প্রদান, ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মাধ্যমে লং হাল ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও রিফুয়েলিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
চিঠিতে চেম্বার সভাপতি বলেন, ২০৩৪ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা এবং চট্টগ্রামকে রিজিওনাল বিনিয়োগ ও লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন ও পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তা বাস্তবায়নে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আন্তরিকতা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা এ ক্ষেত্রে অকুণ্ঠ সমর্থন ও সর্বোচ্চ দেবেন।
তিনি বলেন, প্রধান সমুদ্রবন্দর, বৃহৎ পাইকারি বাজার, একাধিক রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ শিল্প-কারখানা চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবস্থিত। এ কারণে চট্টগ্রাম অতীব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে পরিগণিত; কিন্তু দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চট্টগ্রাম শাহ আমানতে প্রয়োজনীয় প্রায় সব অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতার ব্যবহার হচ্ছে না। এই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আরও অধিক যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট এবং কানেক্টিং ট্রাফিক আকর্ষণের সুযোগ এই বিমানবন্দরের রয়েছে। তাছাড়া ঢাকা কেন্দ্রিক এভিয়েশন ট্রাফিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ও চাপ কমানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে ইস্ট-ওয়েস্ট এভিয়েশন এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড লজিস্টিকস গেটওয়ে হিসেবে পরিণত করার পর্যাপ্ত সুযোগও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর সংলগ্ন পতেঙ্গা এলাকায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ খালি জমি। যেখানে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের জন্য আইসিডি এবং বিমান বন্দরের জন্য কার্গো ভিলেজ স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। পিপিপিসহ নানা পদ্ধতিতে এখানে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
চেম্বার সভাপতি চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করে রোববার যুগান্তরকে বলেন, মোংলা বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও এর সক্ষমতার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার মোংলা বন্দরের স্ট্র্যাটেজিক মাস্টার প্ল্যানে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় হ্রাসকৃত ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও অধিক ট্রাফিক আকর্ষণ করে পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হলে এর জন্যও প্রণোদনামূলক বা রেয়াতি ট্যারিফ নির্ধারণ করা জরুরি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0