হাজার বছরের প্রাচীন মসজিদেও উচ্ছেদ নোটিশ পাঠালো ভারতের রেল বিভাগ!
উত্তর প্রদেশের বারাণসীর কাশী রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থিত ঐতিহাসিক গঞ্জ শহীদন মসজিদের একটি অংশ রেলের জমিতে রয়েছে—এমন দাবি করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ একটি নোটিশ পাঠালে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে মসজিদ পরিচালনা কমিটির জোরালো আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে পরবর্তীতে সেই নোটিশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে রেলওয়ে।
মসজিদ কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ জুন এই নোটিশটি জারি করা হয়েছিল। এতে মসজিদের জমির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রেলওয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দিলে 'অবৈধ দখলদারিত্ব' উচ্ছেদে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রেলওয়ের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে মসজিদ কমিটি। তাদের বক্তব্য, গঞ্জ শহীদন মসজিদটি প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা ভারতীয় রেলওয়ে নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার বহু আগে থেকেই সেখানে বিদ্যমান।
উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে 'অবৈধ দখল উচ্ছেদ'-এর নামে বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নোটিশটি স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক তৈরি করেছিল।
স্থানীয়দের আশঙ্কা ছিল, হাজার বছরের প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন এই মসজিদটি হয়তো আইনি জটিলতার অজুহাতে ভেঙে ফেলা হতে পারে। তারা শুরু থেকেই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান এবং প্রাচীন এই স্থাপনাটি সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।
নোটিশ জারির পরপরই মসজিদ পরিচালনাকারী সংগঠন 'আঞ্জুমান ইনতেজামিয়া মসজিদ' এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে। কমিটির প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করে তাদের অবস্থান ও ঐতিহাসিক তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন। একই সাথে, প্রয়োজনে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।
মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্যাপক আলোচনা এবং নানামুখী আপত্তির মুখে গত ২৩ জুনের দিকে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তাদের নোটিশটি প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের উচ্ছেদ অভিযান বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0