‘স্বৈরাচার পরাজিত’, যন্তর মন্তরে স্লোগান-নৃত্য

Jul 25, 2026 - 09:26
 0  1
‘স্বৈরাচার পরাজিত’, যন্তর মন্তরে স্লোগান-নৃত্য

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের খবরে শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভস্থলে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনকারীরা। প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সমবেত হাজারো মানুষের ‘হার গায়ে, হার গায়ে, তানাশাহ হার গায়ে (স্বৈরশাসকের পরাজয় হয়েছে)’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিক্ষোভস্থল। জাতীয় পতাকা হাতে নাচ-গান, একে অপরকে আলিঙ্গন এবং বিজয় উদযাপনের মধ্য দিয়ে তারা এ ঘটনাকে আন্দোলনের বড় সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এটি তার কাছে ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়’। গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে মঞ্চে উঠে জাতীয় পতাকা ওড়ান এবং এ. আর. রহমানের গাওয়া বন্দে মাতরম পরিবেশন করেন। অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ চাক দে ইন্ডিয়া গানের তালে নাচে অংশ নেয়। অনেককে ড. বি. আর. আম্বেদকরের প্রতিকৃতি ও পোস্টার হাতে দেখা যায়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিজিৎ দিপকে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শক্তিকে উপেক্ষা করা যায় না।

তিনি বলেন, তারা বলত, এই সরকারে কেউ পদত্যাগ করে না। আমরা বলি, ইচ্ছাশক্তি থাকলে বিশ্বও নত হতে বাধ্য।

তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে আন্দোলন শেষ হচ্ছে না বলেও ঘোষণা দেন দিপকে। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকার তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দিপকে বলেন, আপনারা যদি আমাদের ‘ককরোচ’ না বলতেন, আমি ভারতে ফিরতাম না। যুবকরাও রাস্তায় নামত না, আর ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও হতো না। তার এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরও যন্তর-মন্তরে মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল। প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ‘জং অভি ভি জারি হ্যায়, ই২০ কি বারি হ্যায় (যুদ্ধ এখনও চলছে, এবার ই২০-এর পালা)’ স্লোগান দিতে থাকে।

মুম্বাই থেকে বাবা–মেয়েসহ বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ১৭ বছর বয়সী দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ঋতিকা বলেন, সরকার শিক্ষা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতি, আর্থিক সংকট এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অবহেলার মতো নানা ইস্যুতেও জনগণের উদ্বেগ রয়েছে। আমি আমার শিক্ষার অধিকার রক্ষার জন্য এখানে এসেছি।

সূত্র: দ্য হিন্দু

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
admin আপনার আশেপাশের তথ্য, সংবাদ, সমস্যা, সম্ভবনা, প্রতিভা, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, ব্যবসা, বানিজ্য প্রতিটি তথ্যের বিন্দু বিসর্গ তুলে ধরতে চাই। এই চেষ্টায় আপনাদের সাথে চাই, পাশে চাই, সহযোগীতা, পরামর্শ তথ্য চাই। md.sumon71khobor@gmail.com