মায়ামির সবচেয়ে বড় সম্পদ মেসি, সবচেয়ে বড় সমস্যাও মেসি
টরন্টোর কাছে হারের পর টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন মায়ামি; ৩৯ বছর বয়সেও মেসি গোল-অ্যাসিস্টে উজ্জ্বল, কিন্তু তার চারপাশের দলই হয়ে উঠছে বড় দুর্বলতা
লিওনেল মেসির হতাশা এখন আর লুকানোর মতো নেই। শনিবার টরন্টো এফসির কাছে ইন্টার মায়ামির ২-১ হারের ম্যাচে রদ্রিগো ডি পলকে প্রকাশ্যে ধমক দিতে দেখা গেছে আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে। গত মৌসুমে এমএলএস কাপ জেতানো, গোল্ডেন বুট ও এমভিপি পুরস্কার পাওয়া সেই মায়ামিই এখন টানা পাঁচ ম্যাচ জয়হীন। এর মধ্যে তিনটি এমএলএস ও দুটি লিগস কাপের ম্যাচ। ১৩ ম্যাচ হাতে থাকলেও ইস্টার্ন কনফারেন্স ও সাপোর্টার্স শিল্ডের শীর্ষস্থান থেকে মায়ামি পিছিয়ে ১০ পয়েন্টে।
অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে মেসি এখনও নিজের কাজ করে যাচ্ছেন। ৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই ফরোয়ার্ড টরন্টোর বিপক্ষেও গোল করেছেন। চলতি এমএলএসে ১৮ ম্যাচে তার গোল ১৪টি। নিয়মিত মৌসুমে মায়ামির মোট গোলের প্রায় ৪৯ শতাংশে সরাসরি অবদানও রয়েছে তার। সমস্যা হচ্ছে, মেসি যখন প্রতিপক্ষের রক্ষণে আটকে যাচ্ছেন, তখন বাকি দল সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারছে না। প্রতিপক্ষ পুরো রক্ষণ দিয়ে মেসিকে আটকানোর পরিকল্পনা করলেই মায়ামির আক্রমণে ধার কমে যাচ্ছে।
মায়ামির আরেকটি বড় সমস্যা তাদের দল গঠনের কৌশল। মেসিকে ঘিরে একের পর এক খেলোয়াড় আনা হলেও দলীয় প্রয়োজন অনুযায়ী ভারসাম্য তৈরি হয়নি। লুইস সুয়ারেজের বয়স ৩৯, রদ্রিগো ডি পলও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনতে পারেননি। আলবা অবসরের পর তার জায়গা পূরণেও মায়ামি সমস্যায়। অথচ প্রয়োজন ছিল আক্রমণাত্মক ফুলব্যাক, দ্রুতগতির মিডফিল্ডার এবং বেঞ্চে তরুণ ও বহুমুখী আক্রমণভাগের খেলোয়াড়।
সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোও সেই সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। শীতকালীন দলবদলে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ডলারে জার্মান বেরেতেরামেকে আনা হলেও তিনি দ্রুতগতির বা উচ্চ-চাপের ফুটবলে কার্যকর নন। এরপর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে হতাশাজনক সময় কাটানো কাসেমিরোকে আনা হয়েছে। মায়ামির হয়ে পাঁচ ম্যাচে তিনি মাত্র তিনটি ট্যাকল জিতেছেন, একই সংখ্যকবার বল হারিয়েছেন এবং মাঝমাঠ থেকে তৈরি করেছেন মোট চারটি সুযোগ। একটি আত্মঘাতী গোলের পাশাপাশি দুটি হলুদ কার্ডও দেখেছেন তিনি।
এখন মায়ামির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মেসিকে ঘিরে দল গড়বে, নাকি দলের প্রয়োজন অনুযায়ী মেসিকে ঘিরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল তৈরি করবে? বর্তমান প্রকল্পে মেসির ওপর নির্ভরতা যত বাড়ছে, ততই দলটির দুর্বলতাগুলো স্পষ্ট হচ্ছে। ২০২৬ মৌসুম বাঁচাতে বয়সী খেলোয়াড়দের কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে তরুণ ও কার্যকর খেলোয়াড় আনার বিকল্প নেই। কারণ মেসি এখনও আলো ছড়াচ্ছেন, কিন্তু শুধু তার আলোয় ইন্টার মায়ামির পুরো দলকে আর টেনে তোলা যাচ্ছে না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0
