‘ফার্মের মুরগি’ বলা জেন-জিই ঘটিয়েছে মহাকাব্যিক বিপ্লব: তাজুল ইসলাম
দেশের তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’কে অবমূল্যায়ন না করার আহ্বান জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী তাজুল ইসলাম বলেছেন, যাদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলে উপহাস করা হয়েছে, তারাই সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মহাকাব্যিক অধ্যায়ের জন্ম দিয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আবাবিল পাখির মতো’ সেই তরুণরাই এমন এক গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছে, যা দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোও অতীতে করতে পারেনি।
গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, লেখক ও আইনজীবীরা অংশ নেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, যে তরুণদের অনেকেই অদক্ষ বা অক্ষম মনে করেছিলেন, তারাই ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে অসাধারণ সাহস, ঐক্য ও আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে তারা এমন একটি পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যা দেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক নেতৃত্ব অতীতে ঘটাতে পারেনি। এ কারণে নতুন প্রজন্মের দেশপ্রেম, মেধা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। বরং তাদের সাফল্য থেকে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের শিক্ষা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তরুণদের সাহসিকতা শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তা দেয়নি, বরং সংকটময় সময়ে জনগণের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও প্রমাণ করেছে। তাঁর মতে, দেশের প্রবীণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত নতুন প্রজন্মের দায়িত্ববোধ, সাহস এবং আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা।
সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আত্মসমালোচনা এবং কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।.
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তাদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং শতাধিক শিক্ষার্থী।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0