চলতি অর্থবছরে ৪৩ খাতে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা অব্যাহত

Jul 6, 2026 - 02:17
 0  1
চলতি অর্থবছরে ৪৩ খাতে রপ্তানিতে নগদ সহায়তা অব্যাহত

দেশের রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বৃদ্ধি এবং নতুন বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৪৩টি রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা (ক্যাশ ইনসেনটিভ) ও রপ্তানি প্রণোদনা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে রোববার (৫ জুলাই) বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ (এফইপিডি-১) থেকে সার্কুলার নং-১৭ জারি করা হয়েছে। 

‎সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রপ্তানিকৃত পণ্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত হারে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।.

অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় ও প্রধান শাখাকে এ নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।.

‎বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের বিদ্যমান রপ্তানি সহায়তা নীতির আওতায় বিভিন্ন খাতে পূর্বনির্ধারিত হারে প্রণোদনা বহাল থাকবে। একই সঙ্গে নগদ সহায়তার আবেদন নিরীক্ষিত হতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। 

‎সার্কুলারে দেখা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে। রপ্তানিমুখী বস্ত্র খাতে বিকল্প নগদ সহায়তা ১.৫০ শতাংশ, ইউরোপীয় অঞ্চলে রপ্তানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ০.৫০ শতাংশ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পভিত্তিক তৈরি পোশাক কারখানার জন্য ৩ শতাংশ বিশেষ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির জন্য ২ শতাংশ এবং বিশেষ নগদ সহায়তা হিসেবে আরও ০.৩০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

 ‎পাট ও পাটজাত শিল্পেও উল্লেখযোগ্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। বহুমুখী পাটপণ্যের জন্য ১০ শতাংশ, হেসিয়ান, স্যাকিং ও সিবিসি পণ্যের জন্য ৫ শতাংশ এবং পাটসুতার জন্য ৩ শতাংশ নগদ সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, বহুমুখী পাটপণ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ পাট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। 

‎চামড়া ও চামড়াজাত শিল্প দেশের অন্যতম রপ্তানি খাত। এ শিল্পের জন্য ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া সাভার ট্যানারি শিল্পনগরী কিংবা নিজস্ব ইটিপি-সমৃদ্ধ কারখানায় উৎপাদিত ক্রাস্ট ও ফিনিশড লেদার রপ্তানিতে ৬ শতাংশ করে নগদ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। 

‎কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের মধ্যে শাকসবজি, ফলমূল ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানিতে ১০ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হবে। একইভাবে আলু, হালকা প্রকৌশল পণ্য এবং শতভাগ হালাল মাংস ও হালাল প্রক্রিয়াজাত মাংস রপ্তানিতেও ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে। 

‎হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রেও বরফের আবরণ বা আইসিংয়ের হার অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ১.৫০ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে উচ্চমানের রপ্তানিযোগ্য মৎস্যপণ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 ‎এছাড়া আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পণ্য, কাগজ ও কাগজজাত পণ্য, আগর-আতর, অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট (এপিআই), ব্যাটারি, জাহাজ, সফটওয়্যার, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা (আইটিইএস), ফার্মাসিউটিক্যালস, মোটরসাইকেল, সৌরবিদ্যুৎ মডিউল, রেজর ব্লেড, সিরামিক, টুপি, কাঁকড়া, গ্যালভানাইজড শিট, রাসায়নিক পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, চাল, চা, এমএস স্টিল, সাইকেল ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্যের জন্যও ২ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা বহাল রাখা হয়েছে।

 ‎তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার, আইটিইএস ও হার্ডওয়্যার রপ্তানিতে ৬ শতাংশ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের সফটওয়্যার ও আইটিইএস সেবা রপ্তানির বিপরীতে ২.৫০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ সিদ্ধান্ত দেশের আইটি রপ্তানি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 ‎বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্কে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও পৃথক প্রণোদনার ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সার্কুলারে উল্লেখিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের রপ্তানির বিপরীতে অতিরিক্ত ২ শতাংশ এবং বিশেষ নগদ সহায়তার আওতায় থাকা তৈরি পোশাক খাতের জন্য ০.৩০ শতাংশ সহায়তা অব্যাহত থাকবে। 

‎অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওঠানামার মধ্যে রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সহায়তা। বিশেষ করে শ্রমঘন শিল্প, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি এবং অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রণোদনা উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও এ উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 ‎বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলারে আরও জানিয়েছে, নগদ সহায়তার আবেদন যথাযথভাবে নিরীক্ষা করতে হবে এবং পূর্বে জারি করা সব প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অবহিত করতে বলা হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0
admin আপনার আশেপাশের তথ্য, সংবাদ, সমস্যা, সম্ভবনা, প্রতিভা, রাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, সংগীত, ব্যবসা, বানিজ্য প্রতিটি তথ্যের বিন্দু বিসর্গ তুলে ধরতে চাই। এই চেষ্টায় আপনাদের সাথে চাই, পাশে চাই, সহযোগীতা, পরামর্শ তথ্য চাই। md.sumon71khobor@gmail.com