কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে বাজিমাত, রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার আহরণ হয়েছে। প্রথম দুই দিনেই বাজিমাত করেছেন জেলেরা। গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবার। রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি বিএফডিসি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টানা তিন মাস ১৬ দিন পর গত সোমবার (১১ আগস্ট) রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে আনুষ্ঠানিকভাবে মাছ আহরণ শুরু করেন জেলেরা। রাতদিন পরিশ্রম করে প্রথম দুই দিন, অর্থাৎ মঙ্গল ও বুধবার কাপ্তাই হ্রদ থেকে প্রায় ৩১০ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়েছে। এতে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে প্রায় ৪৫ প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালিবাউস, বোয়াল, পাবদা, সাদা টেংরা, বাঁচা, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া, শিং, কাজরি, চাপিলা, কালো টেংরা, কাঁটামাইল্যা, গুঁড়া মাইল্যা, কেচকি, কুঁচা চিংড়ি, গজার, বাইম, ফলি, শোল, টাকি, বাঁশপাতা, বাটা, কৈ, ছোট আইড়, বাতাসি ও বাইল্লা।
রাঙামাটি বিএফডিসি সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন ক্ষেত্র রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। এটি দেশের মিঠাপানির মাছের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। এ হ্রদ থেকে আহরিত মাছ চট্টগ্রাম, ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এর সুফল ভোগ করেন এ অঞ্চলের ২৬ হাজার ৮৪৫টি মৎস্যজীবী পরিবার।
মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাপ্তাই হ্রদে বিপুল পরিমাণ পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এসব পোনা বড় হওয়ার পর পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হয়। বন্ধকালীন সময়ে কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন চাহিদার তুলনায় বেশি হয়েছে। ফলে এবার উৎপাদনও হয়েছে বাম্পার।
সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বেড়েছে, তেমনি দেশের মিঠাপানির মাছের চাহিদাও মিটছে। পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন মৎস্যজীবীরা।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদে মাছের সুষ্ঠু প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের কারণে বাম্পার আহরণ সম্ভব হয়েছে। তবে এর জন্য বিএফডিসির সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রাঙামাটি ফিসারিতে নিবন্ধিত মৎস্য ব্যবসায়ী রয়েছেন ৭৭ জন। আর বিএফডিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৭৬ জন।
রাঙামাটি কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) মাছ অবতরণ কেন্দ্র রয়েছে চারটি। এর মধ্যে রাঙামাটিতে রয়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যায় একটি, রাঙামাটি সদরে একটি এবং কাপ্তাই উপজেলায় একটি। এছাড়া খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে রয়েছে একটি অবতরণ কেন্দ্র। কাপ্তাই হ্রদে মাছের সাতটি অভয়াশ্রম রয়েছে।
রাঙামাটিতে মাছ অবতরণের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টার পর ফিসারিঘাটে মাছ অবতরণ করা যাবে না।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0