ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ভয়াবহ অবস্থা
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ বেশ কিছু নতুন ছবি প্রকাশ করে এই ক্ষয়ক্ষতির চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে। সক্রিয় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কঠোর সংবাদমাধ্যম বিধি নিষেধ সত্ত্বেও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে সরাসরি ঘাঁটির ভেতর থেকে নেওয়া এসব ছবি সাংবাদিকদের পাঠিয়েছেন। সিবিএস নিউজের হাতে আসা এসব ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাক্যাম্পগুলোতে এমন সব সামরিক সরঞ্জামের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা এতদিন সাধারণ জনগণের দৃষ্টির অগোচরে রাখা হয়েছিল।
প্রকাশিত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম চাঞ্চল্যকর চিত্রটি ধারণ করা হয়েছে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বোয়িং ই-থ্রি সেনট্রি নজরদারি বিমানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত হানতে দেখা গেছে। বিমানটির পেছনের অংশ পুড়ে যাওয়া বডি থেকে একবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যার ভেতর মধ্যআকাশে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘূর্ণায়মান রাডার ব্যবস্থা বসানো ছিল।
এছাড়া সেই ঘাঁটির আরও কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানঘাঁটির ভেতরের একাধিক ভবন ও ব্যারাক পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। অথচ এই স্থাপনাগুলো শক্তিশালী কংক্রিটের টি-ওয়াল দিয়ে সুরক্ষিত রাখা হয়েছিল, যা সাধারণ গ্রেনেড বা মর্টার হামলা ঠেকাতে সক্ষম হলেও আকাশপথের আধুনিক হামলায় একেবারেই অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। সৌদি আরবের বাইরে কুয়েতের প্রত্যন্ত মরু অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন গ্রাউন্ড ট্রুপস ও সাঁজোয়া যান চলাচলের কেন্দ্রবিন্দু 'ক্যাম্প বুহরিং'-এ একই ধরনের তাণ্ডবের ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বহু সামরিক যান ও ট্রেইলার পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখা যায়।
বর্তমানে ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা এক মার্কিন সেনা সদস্য সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন যে, এই ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তব চিত্র আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে আড়াল করা হয়েছে। হামলার সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, ঘাঁটিগুলোতে তাদের অবস্থা ছিল এমন যেন চোখে পট্টি বেঁধে দাঁড়িয়ে চড়-থাপ্পড় সহ্য করা। সম্প্রতি কুয়েতের শুয়াইবা বন্দরে ১ মার্চের এক হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হামলা বলে হালকা করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ঘাঁটিতে থাকা সেনাসদস্যরা সেই বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে তারা নিজেদের ঘাঁটিগুলো রক্ষা করার অবস্থানে নেই, বরং স্রেফ অসহায়ভাবে নিজেদের চোখগুলোর সামনে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যেতে দেখছেন।
এই ছবিগুলো প্রকাশের ঠিক পরপরই পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের পক্ষ থেকে একটি নতুন প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পেশ করা হয়েছে। পেন্টাগনের সেই নজিরবিহীন ও বাধ্যতামূলক প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রায় ৬০টির মতো যুদ্ধবিমান ও ড্রোন সহ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের চরম ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যানুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত প্রায় প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেই ধারাবাহিকভাবে ইরানি হামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
সূত্র: আল মায়াদিন
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0